বিশ্বকাপ দলে সাব্বির রহমানকে রাখতে চান কিনা, সাফ জানিয়ে দিলেন অধিনায়ক লিটন
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আর বাকি মাস দুয়েক। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। অন্যান্য দলগুলোর মতোই দল গোছাতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। কারা থাকবেন, কারা বাদ পড়বেন- এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা চলছে বেশ জোরেশোরে। ঠিক এমন সময়ে গণমাধ্যমে স্কোয়াড নিয়ে নিজের ভাবনা জানালেন অধিনায়ক লিটন দাস।
অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা আর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স - এই তিনটাকেই তিনি রেখেছেন প্রাধান্যের কেন্দ্রে। লিটন শুরুতেই পরিষ্কার করে দেন, দীর্ঘদিন ধরে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে যারা খেলছেন, তাদেরই অগ্রাধিকার বেশি থাকবে।
বরাবরের মতো এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডও হবে ১৫–১৬ জনের। আর গত এক বছরে প্রায় ১৮–১৯ জনকে ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে খেলানো হয়েছে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। লিটনের মতে, “যারা এতদিন ধরে খেলছে এবং পারফর্ম করছে, তাদের অভিজ্ঞতাই বেশি মূল্যবান।”
এবারের দলে নতুন মুখ ঢোকার সম্ভাবনা কতটা - এ প্রশ্নের উত্তরে লিটন বেশ বাস্তবসম্মত উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্কোয়াড বড় নয়, তাই নতুনদের জন্য জায়গা পাওয়াও বেশ কঠিন। তারপরও বিপিএলকে তিনি দিয়েছেন বড় গুরুত্ব।
তার ভাষায়, “বিপিএল বাংলাদেশের বড় টুর্নামেন্ট। যদি কোনো খেলোয়াড় অসাধারণ পারফর্ম করে এবং নির্বাচক কিংবা কোচ মনে করে যে তাকে দরকার - তাহলে কেন নয়?”
সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে দলের কাঠামো নিয়ে নানা বাদ–দেওয়া–নেওয়া হয়েছে। এক সময় দলে জায়গা হারানো কয়েকজন আবার সুযোগ পেয়েছেন, কেউ কেউ আবার ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে বাইরে চলে গেছেন। দীর্ঘ দিন পরে ফিরেই সাইফ হাসান, সাইফউদ্দিন সুযোগ কাজে লাগালেও সেদিক থেকে খুব একটা সফল হননি নুরুল হাসান সোহান। ব্যর্থতার বৃত্তে আছে শামীম, জাকেররা।
লিটন বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমরা খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়ে আসছি। আমার মনে হয় প্রায় ১৮-১৯ জন খেলোয়াড় এই বছর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট খেলেছে। অথচ দল হয় ১৫-১৬ জনের। তাই আমার মনে হয় যারা খেলেছে তারা পারফর্ম করেছে, এবং তারা বিশ্বকাপে খেলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট যোগ্য। তারা পারফর্মও করেছে।"
মিডল অর্ডার নিয়েই আলোচনা সবচেয়ে বেশি। গত কিছু সিরিজে রান আসছিল না মাঝের সারিতে। ফলে একজনকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে ঢোকানোর প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু লিটন বলছেন, তিনি খুব বেশি চিন্তিত ছিলেন না। কারণ দুই–একজন খেলোয়াড় ইতিমধ্যে রানে ফিরেছেন। লিটনের মতে, মূল বিষয় হলো বিশ্বকাপের আগে বিপিএল থেকে পুরো দল যেন আত্মবিশ্বাস পায়।
"আর সম্প্রতি একটা সমস্যা ছিল—মিডল অর্ডারে রান হচ্ছিল না। এটা নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম না, কারণ আমাদের দুই-একজন আবার রানে ফিরেছে। এখন যদি আমরা বিপিএলে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, পুরো দলের মানসিক প্রস্তুতি এবং আত্মবিশ্বাসই বিশ্বকাপে কাজে দেবে," বলেন অধিনায়ক।
সব মিলিয়ে লিটনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বিশ্বকাপ দল হবে অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক ফর্মের মিশ্রণে। বিপিএল শেষ হওয়ার পরই মূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অধিনায়ক হিসেবে লিটন নিজেও তাকিয়ে আছেন সেই টুর্নামেন্টের দিকে। কারণ তার বিশ্বাস - বিপিএলে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে দলের মানসিক প্রস্তুতি আর আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

No comments