বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিশ্চিত হারা ম্যাচে অবিশ্বাস্য জয় বাঘিনীদের
শেষ ৩ ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪০ রান, হাতে মাত্র ৩ উইকেট। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ফাতিমা সানাকে ফিরিয়ে দেন নাহিদা। তাতেই যেন পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠোকা হয়ে যায়।
বাঘের গর্জন তো বহুবার শুনেছে ক্রিকেটবিশ্ব। এবার বাঘিনীদের গর্জন শুনলো ক্রিকেট বিশ্ব। আইসিসি নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে দাপুটে এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দারুণ জমজমাট ম্যাচে শেষ দিকে জ্বলে উঠেছিলেন টাইগ্রেস বোলাররা। সেই সুবাদেই এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় জয় পেয়েছে বাঘিনীরা। এই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে দুইটি জয় পেলেন বাংলাদেশ।
সাউদাম্পটনে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছে টাইগ্রেসরা। দলের ৫ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরেছেন দিলারা আক্তার এবং তিনে নামা শারমিন আক্তার সুপ্তা। ৭ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন দিলারা। অন্যদিকে শারমিন ৩ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন।
টিকে থাকা ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস লড়াই করে গেছেন। যদিও সুবিধা করতে পারেননি বেশি একটা। দলের ১৩ রানের মাথাতে ১১ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান জুয়াইরিয়া। মাত্র ১৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
এরপর ক্রিজে জুটি বেঁধেছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং সোবহানা মোস্তারী। পাওয়ারপ্লেটা সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লের পর ধীরে ধীরে হাত খুলে মারতে শুরু করেছেন জ্যোতি এবং মোস্তারী। দুজনের দারুণ কিছু বাউন্ডারিতে রান উঠেছে দলের বোর্ডে।
১৯ বলে ২২ রান করে বিদায় নেন মোস্তারী। জ্যোতি লড়ে গেছেন। দারুণ কিছু বাউন্ডারিতে ৩৮ বলে ৩৬ রান করে থামেন অধিনায়ক। শেষ দিকে ঝড় তোলেন স্বর্ণা আক্তার। ৫ চারে ২২ বলে ৩৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন স্বর্ণা। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের হয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন ফাতিমা সানা। ১টি করে উইকেট নেন তাসমিয়া রুবাব, নাশমা সাধু, তুবা হাসান এবং সাদিয়া ইকবাল।
জবাব দিতে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই চাপ দেন মারুফা আক্তার। প্রথম ওভারেই করেছেন মেইডেন। তবে গুল ফিরোজা এবং মুনীবা আলি এগিয়েছেন সাবলীল ব্যাটিংয়ে। চালিয়ে খেলেছেন দুজন। রান তুলেছেন দ্রুত। পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৪১ রান তুলেছে পাকিস্তান।
পাওয়ারপ্লে শেষে গুলকে ফেরান নাহিদা আক্তার। ১৮ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান গুল ফিরোজা। নিজের পরের ওভারে ৩০ বলে ২৫ রান করা মুনীবাকেও বিদায় করেছেন নাহিদা। দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। তিনে নামা আয়েশা জাফরকে বিদায় করেন সানজিদা আক্তার মেঘলা। ১২ বলে ১১ রান করেন আয়েশা। একই ওভারে আলিয়া রিয়াজকেও ফিরিয়েছেন মেঘলা। ৭০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান, চাপ আরও বেড়েছে।
পাকিস্তানের লেজের দিকের ব্যাটাররা ক্রিজে একদমই সুবিধা করতে পারছিলেন না। ক্রিজে গিয়েই হারিয়েছেন একের পর এক উইকেট। টাইগ্রেস বোলাররা উইকেট তুলেছেন টপাটপ। ক্রমেই সমীকরণ কঠিন হয়েছে পাকিস্তানের। ইরাম জাভেদকে ফেরান রাবেয়া খান। ১৫তম ওভারটি করেছেন উইকেট মেইডেন। শেষ দিকে অধিনায়ক ফাতিমা সানা টিকে ছিলেন। যদিও সমীকরণ ততক্ষণে হয়ে গেছে অনেক অনেক কঠিন, যা এভারেস্ট ডিঙানোর চেয়েও কঠিন কাজ।
শেষ ৩ ওভারে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪০ রান, হাতে মাত্র ৩ উইকেট। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ফাতিমা সানাকে ফিরিয়ে দেন নাহিদা। তাতেই যেন পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠোকা হয়ে যায়। দারুণ এক জয়ের পথে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। ১৭ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ফাতিমা। সেই ওভার থেকে ৮ রান নেয় পাকিস্তান। ২ ওভারে দরকার আরও ৩৮ রান, হাতে মাত্র ২ উইকেট। পরের ওভারেও ৮ রান, শেষ ওভারে চাই ৩০ রান।
পাকিস্তানের লেজের দিকের ব্যাটাররা মারুফা আক্তারের করা শেষ ওভারে সেই রান আর নিতে পারেননি। ২৩ রানে জয়লাভ করে বাংলাদেশ। ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানে থামে পাকিস্তান।

No comments